মাটকার ইতিহাস: তুলোর দর থেকে আজকের ওয়েবসাইট
মাটকা কথাটার মানে মাটির হাঁড়ি। কিন্তু খেলাটার গল্প হাঁড়ি দিয়ে শুরু হয়নি; শুরু হয়েছিল তুলোর বাজারে, আর তার খবর আসত সমুদ্র পেরিয়ে টেলিগ্রামে। আজ যে লাইন 458-74-239 এই চেহারায় লেখা হয়, তার পিছনে ষাট বছরের বেশি পুরনো একটা রাস্তা আছে: তুলোর দর থেকে হাঁড়ি, হাঁড়ি থেকে টেলিফোন, টেলিফোন থেকে ওয়েবসাইট। এই লেখায় সেই রাস্তাটা ধাপে ধাপে বলা হয়েছে। যে কয়েকটা তারিখ আর নাম সবাই মোটামুটি মানেন, শুধু সেগুলোই এখানে আছে; আন্দাজে কিছু বসানো হয়নি।
নিউ ইয়র্ক থেকে বোম্বে: তুলোর দর
1961-এর আগে বোম্বের তুলো ব্যবসায়ীরা নিউ ইয়র্কের তুলো এক্সচেঞ্জের দর পেতেন কেবলে, মানে টেলিগ্রামে। দিনে দুটো দর আসত: বাজার খোলার সময়ের দর আর বন্ধ হওয়ার সময়ের দর। ব্যবসার বাইরের লোকজন সেই দুটো দরের উপর বাজি ধরতে শুরু করলেন। ওপেন আর ক্লোজ, এই দুটো শব্দ সেই তুলোর দর থেকেই আসা। দর ঠিক হত নিউ ইয়র্কে, বোম্বের কারও হাত তাতে ছিল না। তাই বাজির ফল কেউ আগে থেকে জানতে পারত না, আর সেটাই ছিল চলটার আসল আকর্ষণ।
যখন দর আসা বন্ধ হল
1961-এর কাছাকাছি সময়ে নিউ ইয়র্ক থেকে বোম্বেতে তুলোর দর আসা বন্ধ হয়ে যায়। দর না এলে বাজি ধরার কিছু থাকে না। কিন্তু যাঁরা রোজ খেলতেন, তাঁদের অভ্যাস তো থেকে গেল: দিনে দুবার, একটা ওপেন, একটা ক্লোজ। দরকার হল এমন একটা সংখ্যার, যেটা দিনে দুবার বেরোবে, আর যেটা আগে থেকে কারও জানা থাকবে না।
হাঁড়ি থেকে চিরকুট: ওয়ার্লি মাটকা
1962 সালে কল্যাণজি ভগত তার একটা উপায় বের করলেন। দরের জায়গায় এল চিরকুটের ড্র। সংখ্যা লেখা কাগজের টুকরো একটা মাটির হাঁড়িতে ফেলা হত, তারপর সেখান থেকে তুলে সংখ্যা ঘোষণা হত। মাটির হাঁড়িকে হিন্দিতে বলে মাটকা, আর ওই হাঁড়ির নামেই খেলার নাম হয়ে গেল। ওয়ার্লি এলাকা থেকে খেলাটা চলত বলে তার নাম দাঁড়াল ওয়ার্লি মাটকা। আজকের কল্যাণ বাজার তাঁর নামের সঙ্গেই জড়িয়ে, আর তার রেজাল্ট এই সাইটে রোজ তোলা হয়।
দ্বিতীয় বাজার: নিউ ওয়ার্লি মাটকা
দুবছর পরে, 1964 সালে, রতন খত্রী চালু করলেন নিউ ওয়ার্লি মাটকা। নিয়মে কিছু রদবদল করলেন, আর খেলাটাকে আরও অনেক মানুষের কাছে নিয়ে গেলেন। তখন থেকে দুটো বাজার পাশাপাশি চলতে লাগল, দুটোতেই সেই একই ওপেন-ক্লোজ কাঠামো। আজ আলাদা আলাদা নামের অনেক বাজার যে একই হিসাবে চলে, তার গোড়া এই সময়টাতেই।
কাপড়কলের পাড়ায় সন্ধ্যা: সত্তর আর আশির দশক
সত্তর আর আশির দশক মাটকার সবচেয়ে বড় সময়। বোম্বের কাপড়কলের শ্রমিক, পাড়ার দোকানদার, অফিসের কেরানি, সবাই সন্ধ্যায় নম্বরের অপেক্ষায় থাকতেন। কলকারখানার আশপাশের মহল্লাগুলোয় এটা রোজকার জীবনের অংশ হয়ে দাঁড়াল। নম্বর ছড়াত মুখে মুখে, চিরকুটে, পরে খবরের কাগজের ছোট কলামে। এই সময়েই লেখার সেই ছাঁচটা পাকা হল যা আজও চলছে: ওপেন পান্না, জোড়ি, ক্লোজ পান্না। খাতায় হাতে লেখা চার্টের চলও এই সময়ের।
নব্বইয়ের কড়াকড়ি
নব্বইয়ের দশকে মুম্বই পুলিশ মাটকার আড্ডাগুলোয় একের পর এক হানা দিল। বড় আড্ডা বন্ধ হল, কারবার ছড়িয়ে পড়ল শহরের বাইরে আর ছোট ছোট জায়গায়। যে খেলা এতদিন খোলাখুলি চলত, তা লুকিয়ে চলতে লাগল। এই কড়াকড়ির পরেই নম্বর পৌঁছনোর রাস্তাও বদলাতে শুরু করল, কারণ এক জায়গায় জড়ো হওয়া আর সহজ ছিল না।
খাতা থেকে স্ক্রিনে
দুহাজারের দশকে নম্বর আসতে লাগল ফোন কল আর এসএমএসে। তারপর এল ওয়েবসাইট, যেখানে ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে রেজাল্ট দেখা যায় আর পুরনো সপ্তাহগুলোর পুরো রেকর্ড এক জায়গায় থাকে। যে চার্ট আগে খাতায় হাতে লেখা হত, সেটাই এখন জোড়ি চার্ট আর প্যানেল চার্ট হয়ে অনলাইনে। Satta Matka Result সেই ধারার একটা অংশ: এখানে রেজাল্ট, রেকর্ড চার্ট আর মার্কেট টাইম টেবিল আছে, বাজি ধরার কোনও ব্যবস্থা নেই।
এক নজরে সময়রেখা
| সময় | কী ঘটল |
|---|---|
| 1961-এর আগে | নিউ ইয়র্ক থেকে টেলিগ্রামে আসা তুলোর খোলা আর বন্ধ দরের উপর বাজি |
| 1961-এর কাছাকাছি | নিউ ইয়র্ক থেকে তুলোর দর আসা বন্ধ |
| 1962 | কল্যাণজি ভগতের ওয়ার্লি মাটকা; হাঁড়ি থেকে চিরকুট তোলার শুরু |
| 1964 | রতন খত্রীর নিউ ওয়ার্লি মাটকা |
| সত্তর ও আশির দশক | মুম্বইয়ে খেলার সবচেয়ে বড় বিস্তার |
| নব্বইয়ের দশক | পুলিশের হানা; মুম্বইয়ের বড় আড্ডা বন্ধ |
| 2000-এর পর | ফোন, এসএমএস আর ওয়েবসাইটে রেজাল্ট |
যা অনেকে ভুল জানেন
- "মাটকা একজন লোকের বানানো।" না। তুলোর দরের বাজি তাঁদের আগে থেকেই চলছিল; কল্যাণজি ভগত আর রতন খত্রী সেটাকে হাঁড়ির ড্র-র চেহারা দিয়েছিলেন।
- "আজও নম্বর হাঁড়ি থেকে ওঠে।" হাঁড়ি ছিল শুরুর দিকের পদ্ধতি। আজ প্রতিটি বাজার নিজের মতো করে নম্বর ঘোষণা করে; শুধু নামটা পুরনো রয়ে গেছে।
- "পুরনো চার্ট তুলোর দরের মতো ওঠানামা করে।" চার্টে শুধু পান্না আর জোড়ি। তুলোর সঙ্গে তার আর কোনও সম্পর্ক নেই, আর তা থেকে পরের নম্বর বেরোয় না।
- "কারও কাছে কালকের ক্লোজ আগে থেকে থাকে।" তুলোর আমলেও বন্ধ হওয়ার দর কেউ আগে পেত না। আজ যে "লিক" বেচে, সে শুধুই ঠগ।
- "কল্যাণ মানে আলাদা একটা খেলা।" কল্যাণ একটা বাজারের নাম, যার নিজের সময় আর ছুটি আছে। অঙ্ক আর জোড়ির হিসাব সব বাজারে একই।
- "পুরনো খেলা, তাই এখন আইনসম্মত।" বয়স দিয়ে আইন ঠিক হয় না। বাজি ধরা আজও বেশিরভাগ রাজ্যে অপরাধ।
আইন আর সাবধানতা
ভারতের বেশিরভাগ রাজ্য মাটকায় টাকা লাগানোকে বেআইনি ধরে, আর তাতে শাস্তি হতে পারে। কয়েকটা রাজ্যের নিজস্ব নিয়ম আছে; তাই আপনার রাজ্যে যে আইন চালু, সেটাই আপনার উপর খাটে। Satta Matka Result কোনও রকম বাজি নেয় না, টাকা জমা রাখে না, কোনও বুকির সঙ্গে যুক্ত নয়; এখানে শুধু ঘোষিত রেজাল্ট আর তার রেকর্ড। এই লেখা 18 বছরের বেশি বয়সের পাঠকদের জন্য। ইতিহাস জানা ভালো, কিন্তু ইতিহাসও পরের নম্বর বলে না। চার্ট পেরিয়ে যাওয়া দিনের হিসাব রাখে, ভবিষ্যৎ কখনও বলে না। খেলার নিয়ম বুঝতে বাংলা গাইড পড়ুন; ইংরেজিতে একই গল্প ইতিহাস পাতায় আছে।